ছাত্রদের বিজয় মিছিলে কিন্তু আগামী লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি।
আগমনীর সুরমুর্ছনার জন্য কান পেতে রইলাম।
পাশে ছিলাম,পাশে আছি,পাশে থাকব যাদবপুর।
পলাশ বিশ্বাস

মীডিয়ার খবর, আরও একবার তারুণ্যের উচ্ছ্বাস কলকাতার রাজপেথ। আরও একবার রাজপথে হলো কলরব। আবারও সেই যাদবপুর।

ছাত্রদের বিজয় মিছিলে কিন্তু আগামী লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি।আগমনীর সুরমুর্ছনার জন্য কান পেতে রইলাম।

পাশে আছি,পাশে থাকব যাদবপুর।

মুকুল ঝরল বসন্তবিলাপের মত,জেদী দিদি চলে এলেন ছাত্রদের মধ্যিখানে,যাদের পিটিয়ে নন্দীগ্রাম রবীন্দ্রসরোবর করল সেপ্টেম্বরের সেই অভিশপ্ত দিনে দিদিরই পুলিশ।বিদায়ী উপাচার্যত সব দায় ঘাড় থেকে সরাসরি ফেলে দিয়ে বলে দিলেন সরকারকে জানানো হয়েছিল।বললেন তিনি,পুলুশ পুলিশের কাজ করেছে এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন।

তাহলে এই দাযকার ঘাড়ে বর্তায় জানতে ইছ্ছা করে।

বিদায়ী উপাচার্য বলেছেন,তিনি ইস্তীফা দিতে বাধ্য হলেন,তাই কালো দিন।তিনি শোনেন নি,দেখেননি,ছাত্রদের লাঠিপেটা করে হয়েছিল সেই দিন।তিনি শোনেন নি দেখেন নি,ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি হয়েছিল সেদিন।

তিনি বলে দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেশার ঠেক সরাতে চেয়েছিলেন।নেশাগ্রস্ত ছাত্ররা আন্দোলন করলেন ও জিতলেনও।অথচ মুখ্যমন্ত্রী সেই ছাত্রদের জয়ের কৃতিত্বও দিয়ে দিলেন।

উপাচার্যের পদ থেকে সরছেন অভিজিত্‍ চক্রবর্তী। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী একথা ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিলেন যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা। আন্দোলনে জয়ের পর আজ ছিল বিজয় মিছিল।

তার আগে সকাল থেকেই উত্‍সবের মেজাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ছিল একে অপরকে রঙীন করার পালা। চলেছে মিষ্টিমুখের পালাও। বেলা চারটের কিছু আগে আজ ফের পথে নামে যাদবপুর। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে হাজার ছাত্রছাত্রী দখল নেন রাজপথের। নাচ-গান-স্লোগানে সোচ্চার ছিল মিছিল। মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন অভিভাবকরাও। শেষ হল একটা পর্বের। আগামী শনিবার নন্দন থেকে রাজভবন মিছিলের ডাক দিয়েছে যাদবপুর।

গীতশ্রীর এই ছবি সোনা হয়ে আছে মনে মনে।উপাচার্যের বক্তব্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি হয়েছে,সম্মানহানি হয়েছে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীরও।

বিশ্বাস করি হোক কলরব আজও অরাজনৈতিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোজা শিরদাঁড়ার প্রতিবাদ,প্রতিরোধ।

সংবাদে প্রকাশ,প্রতিবাদী ছাত্রদের নিশানায় রেখেই সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন যাদবপুরের উপাচার্য অভিজিত্‍ চক্রবর্তী। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক, অ্যালকোহলের রমরমা বলে আন্দোলনকে কটাক্ষ করেন বিদায়ী উপাচার্য।

সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমত আক্রমণাত্মক ঢঙেই কথা বললেন বিদায়ী উপাচার্য। বললেন, "রাজনৈতিক আন্দোলনের শিকার হলাম। আমায় অগণতান্ত্রিক আন্দোলনে চলে যেতে হল।"চার মাস পরে ইস্তফা দিলেন কেন? প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ বলে এড়িয়ে গেলেন। সঙ্গে বললেন, "কোনও রাজনৈতিক চাপে ইস্তফা দিইনি।"বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্থিতাবস্থা ফেরাতে পারিনি বলেও স্বীকার করে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রসঙ্গের কথাও তোলেন। রাজ্যপালের কাছেই পদত্যাগপত্র দেবেন বলে জানালেন বিদায়ী উপাচার্য।

এদিকে, শুরু হয়ে গেল যাদবপুরের বিজয় মিছিল। মিছিলে পা মিলিয়েছেন অসংখ্য ছাত্রছাত্রী। উপাচার্যের ইস্তফা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। দীর্ঘ চার মাস লড়াইয়ের পর জয় হয়েছে আন্দোলনের। সকাল থেকেই উত্‍সবের মেজাজ ছিল যাদবপুরে। ক্যাম্পাসজুড়ে চলেছে হোলি খেলা। একে অপরকে রঙে রঙীন করে তুলছেন ছাত্রছাত্রীরা। চলেছে মিষ্টিমুখের পালাও। আজকের মিছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে যাবে গোলপার্ক পর্যন্ত।