আল্লা,অন্ধ যেজন,তাহাদের চক্ষু ফুটাইয়া দে
আল্লা,অন্ধ যেজন,তাহাদের চক্ষু ফুটাইয়া দে
আল্লা,অন্ধ যেজন,তাহাদের চক্ষু
ফুটাইয়া দে
শারদোত্সবে বসন্তের আগমণী আমি দেখেছি নন্দিনীকে
কলরবে উথাল পাথাল বৃষ্টিতে, শুনেছি তাঁর মধু কন্ঠস্বর
পলাশ বিশ্বাস
কলরবে উথাল পাথাল বৃষ্টিতে, শুনেছি তাঁর মধু কন্ঠস্বর
যাদবপুরে ছাত্রমিছিলের পাল্টা মিছিল এবার তৃণমূলের। সোমবার রাজভবন অভিযান করবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, যাদবপুরে নৈরাজ্য চলছে। সেই বক্তব্যই রাজ্যপালের কাছে জানাবে তারা।
অন্যদিকে সোমবার দুপুরে মিছিল করবেন তৃণমূল সমর্থক শিক্ষাকর্মীরা। দুপুর একটায় যাদবপুর থেকে শুরু হবে মিছিল। কোনও দলীয় পতাকা ছাড়াই গোলপার্ক পর্যন্ত যাবে মিছিল।
আরব বসন্তের হাল হকীকতে ওয়েল ওয়াকিফ হওয়ার পর বসন্ত বলতে বসন্তের মহামারিকেই ভয় পাই।বাংলার কৃষি বিদ্রোহকে সত্তর দশকে চিন আখ্যা দিয়েছিল,বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ,সেই গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার পরিকল্পনায় আজও থমকে আছে ভুমি সংস্কার,যার সুচনা দু শো বছর আগে হরিচাঁদ ঠাকুরের আসলি নবজাগরণে,ব্রাহ্মণ্যবাদের বজ্র আটুনি থেকে বৌদ্ধময় ভারতের জ্বল জ্বল প্রতিচ্ছবি যেন, আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ সারি সারি ঔপনিবেশিক উত্পাদনপ্রণালির গন্ডি পেরিয়ে অধুনা মুক্তবাজারেও সেই দাবিতে সমানে সোচ্চার কৃষিজীবী জাতপাতে,বর্ণ বৈষম্যে খন্ডিত বিখন্ডিত লোক গ্রাণীণ ভারত।
জাতি ব্যবস্থা ও বর্ণবৈষম্যের রাজনীতি ক্ষমতা দখল লাড়াইয়ের মধ্যেও এপার বাংলা ওপার বাংলা পরবাসী উদ্বাসুত বাংলার ভূগোল ইতিহাসে যে সহজাত প্রগতিবাদ,সহঅস্তিত্ব ও মনুষত্বের জয়গান,সহজিযা বাউল বৈষ্ণব জীবন যাপন ভোগ ষাঁড় সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে,বাঙালি ও বাংলার সেই উদ্বুদ্ধ প্রবুদ্ধ ঐতিহ্যেই বসবাস বাঙালি জাতিসত্তার।
বর্ণ জাতি ভেদ ডিঙিয়ে ঔপনিবেশিক কাল থেকে সেই শুরু,তেভাগা খাদ্য আন্দোলন নক্সাল জমানায সেই সত্তর দশক পর্যন্ত জাত বজ্জাতির বিরুদ্ধে যা বঙ্গীয মানসবিবেক,তার প্রতিচ্ছবি দেখলাম কলকাতার জলমগ্ন রাজপথে প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে থাকা লিঙ্গোর্ধ শ্রেণীচেতস যুব মুখে মুখে।
মিছিলের শহরে মিছিলের ফিরে আসার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধ হয় এটাই।
বিদেশি কোনো তত্ব দিয়ে এই ছোট্ট মোডকে চিন্হিত না করে সভাষ মুখোপধ্যায়ের পদাতিকে নবান্নের সুগন্ধে চাপানি মার্কি জৌলুস থেকে এক্কেবারে আলাদা এই মিছিলের অরাজনৈতিক মুখ,যা ক্ষমতার চোখে এমনকি অন্ধ ভক্তবৃন্দের চোখে বহিরাগতের রাজনৈতিক আস্ফালন।
আল্লা,ম্যাঘ দে
আল্লা ,পানি দে
আল্লা,অন্ধ যেজন,তাহাদের চক্ষু
ফুটাইয়া দে
চক্ষুষ্মান চক্ষুষ্মতী বাঙালি বাঙালিনীর বড়ই আকাল।
দশ হাতে তশটি রত্নপাথর,তাবিজ ধাগা রুদ্রাক্ষ ভুষিত শপিং মলে যে বাঙালির অধিষ্ঠান,টিভি তেখ অন্দরমহলে যার জ্যোতিষ বসতি,বিপদে রক্ষার জন্য তেত্রিশ কোটি দেব দেবি ছাড়াও রোজই নূতন দেব দেবি,অবতার, বাবা,তান্তরিকে যার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন,সহবাসে যার জাপানি তৈল চাইই,উত্পাদণ প্রণালির মহাশ্মশানে,জনপদের গোরস্থানে,গণসংহার কালে অন্ধকারের শাসনে এই মগের মুলুকে চক্ষুষ্মানরা সবাই একযোগে নিরুদ্দেশে।
তাঁরা যেন এই প্রবলে বৃষ্টিপাতে ফিরে এল আবার।
ভেবেছিলাম,লড়াকু সেদিনের সেই জননেত্রী পরবল বডষ্টিতে ক্ষমতার সব সমীকরণ উলটে পালটে দিয়ে উথাল জনপথে এসে দাঁড়িয়ে বলবেন,কি সমস্যা,এই ত আমি তোমাদের মুখ্যমন্ত্রী।
ঔ পথের ঠিকানা ভুলেছেন দিদি,পথি একন তাঁকে পথ দেখাবে।
গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক আলাপচারিতার ক্ষেত্রগুলো মুখর হয়ে উঠেছিল শনিবার দুপুরের এই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বানে৷ নানা পোস্টার, ছবি, কার্টুন, ছড়া আর কবিতা দিয়ে শানিয়ে তোলা হচ্ছিল প্রতিবাদকে৷
সবকটি পোস্টেই ছিল যাদবপুরের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের হ্যাশট্যাগ– হোক কলরব! শনিবার সকাল থেকে প্রায় একটানা বৃষ্টি সত্ত্বেও দুপুর দুটো নাগাদ ভরে উঠতে থাকে রবীন্দ্রসদন-নন্দন চত্বর৷ রাস্তা জুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ঢল এবং তাদের সমবেত কলরব আদতেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল, এটা আর পাঁচটা বাঁধা গতের বিক্ষোভ নয়, বরং এক অন্য ধারার প্রতিবাদ জন্ম নিচ্ছে এই শহরে৷ যেখানে স্লোগান বাঁধা হচ্ছে – লাঠির বদলে গানের সুর, দেখিয়ে দিচ্ছে যাদবপুর৷ - See
খবর যেরকমঃকলকাতার রাজপথে প্রতিবাদী যৌবনের ঢল৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে এবং ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্র-ছাত্রীরা৷
কলকাতার ঐতিহ্যমণ্ডিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একত্মা প্রকাশ করে শুক্রবার থেকে শিক্ষকদের একাংশ কোনো ধরনের প্রশাসনিক কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া কলকাতারা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পক্ষে রাস্তায় নেমেছেন কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলের একটি অংশ।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সঠিকভাবে কাজ করছে না- এ অভিযোগে গত ২৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শেষ কবে এমন বিশাল ছাত্র-মিছিল দেখেছে কলকাতা, অনেকেই মনে করতে পারছেন না৷ সঠিকভাবে বলতে গেলে, এমন অরাজনৈতিক বিক্ষোভ মিছিলের নজির প্রতিবাদী এই শহরেও খুব বেশি নেই৷ ঘটনা যদিও যাদবপুরের কিন্তু অন্যান্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সহমর্মী ছাত্র-ছাত্রীরা দলে দলে এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন৷ অসমর্থিত সূত্রে তাঁদের সংখ্যাটা প্রায় ৩৬ হাজার৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এখানকার প্রাক্তনীরাও৷ রয়েছেন প্রেসিডেন্সি কলেজের মতো বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা৷ অন্যদিকে নয়াদিল্লি-তে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরও কিছু নামী কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ভৌগোলিক দূরত্বকে কার্যত অস্বীকার করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দিল্লির রাজপথে৷
গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক আলাপচারিতার ক্ষেত্রগুলো মুখর হয়ে উঠেছিল শনিবার দুপুরের এই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বানে৷ নানা পোস্টার, ছবি, কার্টুন, ছড়া আর কবিতা দিয়ে শানিয়ে তোলা হচ্ছিল প্রতিবাদকে৷ সবকটি পোস্টেই ছিল যাদবপুরের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের হ্যাশট্যাগ– হোক কলরব! শনিবার সকাল থেকে প্রায় একটানা বৃষ্টি সত্ত্বেও দুপুর দুটো নাগাদ ভরে উঠতে থাকে রবীন্দ্রসদন-নন্দন চত্বর৷ রাস্তা জুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ঢল এবং তাদের সমবেত কলরব আদতেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল, এটা আর পাঁচটা বাঁধা গতের বিক্ষোভ নয়, বরং এক অন্য ধারার প্রতিবাদ জন্ম নিচ্ছে এই শহরে৷ যেখানে স্লোগান বাঁধা হচ্ছে – লাঠির বদলে গানের সুর, দেখিয়ে দিচ্ছে যাদবপুর৷
রবীন্দ্রসদন থেকে বিক্ষোভ মিছিলের গন্তব্য ছিল রাজভবন৷ উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের ইস্তফার দাবি জানানো রাজ্যপালের কাছে৷ বিধি মোতাবেক, রাজ্যের যিনি রাজ্যপাল, তিনিই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য৷ যে কারণে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি ঘটনার পর পরই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বিতর্কিত উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী-কে ডেকে পাঠিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়েছিলেন৷ কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের কোনও বক্তব্য যেহেতু জানার চেষ্টা হয়নি রাজ্যপাল বা সার্বিকভাবে প্রশাসনের তরফ থেকে, তাই বিক্ষোভের আওয়াজ রাজভবন পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷
প্রত্যাশিতভাবেই সেই বিক্ষোভ মিছিলকে রাজভবন পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি৷ বরং মাঝপথেই পুলিশের এক ত্রি-স্তর ব্যারিকেড সেই মিছিলের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছিল৷ ঘটনাচক্রে এই জায়গার অদূরেই রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি, যে জননায়ক সারা বিশ্বকে অহিংস আন্দোলনের পথ দেখিয়েছিলেন৷ যাদবপুরের ছাত্র-ছাত্রীরাও আগাগোড়া অহিংস রাস্তাতেই এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন৷ বাধা পেয়ে মিছিল সটান বসে পড়ে রাস্তাতেই৷ শুরু হয় সমবেত স্লোগান, গান৷ আটজন ছাত্রছাত্রীর একটি দল পুলিশের পাহারায় দেখা করতে যান রাজ্যপালের সঙ্গে৷
রাজ্যপাল ত্রিপাঠি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ছাত্র-প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন, উপাচার্যকে অপসারণের দাবির নৈতিকতা স্বীকার করেন, সমর্থন জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার৷ তবে এর জন্য রাজ্যপাল সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে৷ রাজ্যপাল ছাত্র-বিক্ষোভ সম্পর্কে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাননি, বরং নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, এই খবরেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন অবস্থানরত ছাত্র-ছাত্রীরা৷ সিদ্ধান্ত হয়, আন্দোলন চললেও অবস্থান তুলে নেওয়া হবে৷
এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এখনও একইরকম অনুতাপহীন৷ শনিবার হঠাৎই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উপাচার্যের পাতায় দেখা গিয়েছিল, তিনি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন৷ বলেছেন "আই অ্যাম সরি"৷ কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ওয়েব পাতাটি ব্লক করে দিয়ে জানানো হয়, কে বা কারা নাকি হ্যাকিং করে ওই কথা লিখে দিয়ে গেছে৷ এর পরই গোটা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখতে শুরু করেন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী৷ কিন্তু তিনি দেখতেও পান না, রাজ্যপাল যে সহানুভূতি দেখালেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি, শুধু সেই বিচক্ষণতা দেখাতে পারলেই আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না তাঁকে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হত না এই অচলাবস্থা৷
যাদবপুরে পুলিশ লাঠি চালায়নি। যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে ও ধৈর্য্য ধরেই কাজ করেছে তারা। আজ এক সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই দাবি করলেন পুলিশ কমিশনার সুরজিত কর পুরকায়স্থ। তাঁর দাবি, পুলিশ যা করেছে, আইন মেনেই করেছে। পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন, বহিরাগতদের কাছে মারাত্মক অস্ত্র ছিল, এমনই খবর ছিল পুলিশের কাছে।


