আহা কি আনন্দ!
বাহা কি আনন্দ!

মাতৃভূমি নিয়ে তুলকালম এখনো শেষ হল না,পিতৃভূমি আন্দোলন শুরু হল.যাদের চোখে হোক কলরব অভব্য,এই লিঙ্গ বৈষম্যে আধিপাত্যবাদের ল্যাংটা নাচে তাঁদেরই শ্রেষ্ঠ বিনোদন-আহা কি আনন্দ!
ফের বিক্ষোভ মাতৃভূমি ঘিরে, জেনেরাল কামরার দাবিতে অবরোধ পুরুষ যাত্রীদের, রণক্ষেত্রে হাবরা স্টেশন চত্বর!
পলাশ বিশ্বাস
মাতৃভূমি নিয়ে তুলকালম এখনো শেষ হল না,পিতৃভূমি আন্দোলন শুরু হল.যাদের চোখে হোক কলরব অভব্য,এই লিঙ্গ বৈষম্যে আধিপাত্যবাদের ল্যাংটা নাচে তাঁদেরই শ্রেষ্ঠ বিনোদন-আহা কি আনন্দ!

এই বাংলায় একদিন লেখা হয়েছিল বন্দে মাতরম্,তাই ত ত লতার কন্ঠে অন্ধ জাতীয়তাবাদের ইন্ধন!

মাতৃভূমি পিতৃভূমি দুটোই রাজনীতির কুরুক্ষেত্রে সমাজবাস্তবের একমাত্র কুরুক্ষেত্র হয়ে ওঠা এখন শুধু ক্ষমতার দর কষাকষি,তারপর?

জনগণ যখন বিবেক ও দায়বদ্ধতার গন্ডি পেরিয়ে বাজার ও বিনোদনে নিমগ্ন,সব বন্দুকের মুখে যখন কন্ডোম এবং ঠিক তখুনি জাপানী তেল মম,রকেট ক্যাপসুলে না দাঁড়ানোর দাঁড়ানো,তখন সমাজবাস্তব ইহাই হইতে পারে!

বাংলাদেশে রাঢ় বহ্গের ওপারে বাঙাল আদিবাসিদের আস্তানা.বৌদ্ধময় ভারতের শেষ ইতিহাস,ধর্মান্তরিত বাঙালদের বংলা জাতীয়তাবাদের উল্লাস,গরব.

তাই তাঁরা লিখতেই পারে প্রান্তিক সমাজের সমাজবাস্তব.
তাই তারা প্রয়োজনে প্রাণও দেতে পারে,যত চাই তত প্রাণ.
আসলে তাঁরা বাঙ্লাই বটে,বাঙালি আদৌ নয়.

তাই তাঁরা লিখতে পারে অনায়াসেঃ
এ ভূমির আরো নাম আছে।
মৃত্যুভূমি, গর্বভূমি, ঐতিহ্যভূমি, সবুজভূমি।
কখনও মাতার, পিতার।
কখনও জন্মের ঋণ শোধরাবার।
ভ্রাতৃভূমি, ভগ্নিভূমি কখনও বা, কারো কারো।
আবার বঙ্গভূমি, ভাটিভূমি, গ্রাম্যভূমিও স্থান করে নিতে পারে সাহিত্যভূমিতে।
ভূমিকে অধিগ্রহণের সখ্যাত হতে থাকে আমাদের..
ভূমি অধিগ্রহণ অথবা ভিটেছাড়া,গ্রামছাড়া,দেশ ছাড়া,ছন্নছাড়া উদ্বাসতু জীবন ও জীবিকার ইতিকথা!

পেশি শক্তির কাছে অবনত মেধা!
নির্মম আধিপাত্যে নমগ্ন প্রান্তিকতা!

অস্পৃশ্যতা তবূ অস্পৃশ্যতা,তবু বিপ্লব মুখে মুখে!
প্রাণ নেই কারো বুকে,মাথা নেই কবন্ধের মিছিলে শামিল!

বাঙাল ঘটি বিবাদ বিবাহ প্রেম সম্পর্কে তেমন রগরগে নেই আর,তাই মাতৃভূমি পিতৃভূমি বিবাদে আনন্দের নয়া আযোজন! মারকাটারি শ্লোগান!

রক্তে বোনা ধানের লড়াই ত নয়,লোকাল ট্রেনের লড়াই!সব ক্ষেত্রেই সবার শেষে,নির্মম নৈরাজ্যে,মগের মুল্লুকে ইহার চাইতে ভালো বিনোদন হয় না মা মাডি মানুষের দ্যাশে!

হয় মাতৃভূমি না হয় পিতৃভূমি!
হয় বিনোদন না হয় আনন্দ!
আহা কি আনন্দ!
বাহা কি আনন্দ!
বাঙালির বোধ বুদ্ধি কি সকলই লোপ পাইয়াছে?
পশ্চিম বঙ্গে কি বাঙালি কম পড়িয়াছে?

পড়িলেও পড়িতে পারে,কেননা দেশভাগের পরও বাঙাল এখনো বাঙাল হয়ে আছে!ঘটি বাঙাল ভেদাভেদে কামড়াকামড়ি আজও দেশভাগের পরও অব্যাহত,বাড়ির মেয়েরা তো ঘর কি মুরগি,যব চাহে হলাল!

মুশকিল হল মুক্ত বাজারে মেয়েদেরও ডানা মেলা শেখা হয়ে গেছে,তাই ইচ্ছা,ইচ্ছা করিলেই এখন আর প্রেম নামক ন্যাকামো হয় না ,তাই বঙ্গভূমি এখন ধর্ষণভূমি!

তবু তে গুরুমহারাজ দাঁড়ায় না!
দাঁড়ায় না তাই যত রাগ মেয়েদের খিলাফ,ঘরে বন্দি করে ভোগ করার অবাধ স্বাধীনতা নাই,তাই নপুংসক ক্রোধে মাতৃভূমিটাই বাতিল করে বঙ্গভূমি পিতৃভূমি করার এই বিনোদন,আহা কি আনন্দ!

বিপ্লবী বাঙালির জীবন জীবিকার কোনো সত্যিকারের সমস্যা আর কিছু নেই!সব ইস্যু শেষ!

এর চেয়ে অন্তর্বাস পরে হোক কলরব হোক্,তো হোক্!
এর চেয়ে রাজপথে হোক্ চুম্বন, তো হোক্!