তাহলে মতুয়ারা কি এবার বিজেপিতে এবং তাতে কি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান হবে?
তাহলে মতুয়ারা কি এবার বিজেপিতে এবং তাতে কি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান হবে?
অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করে নিলেন মতুযারা বিজেপির ভরসায় সুব্রতঠাকুরের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর
প্রশ্ন উঠছে স্বঘোষিত মতুয়া মমতাব্যানার্জিকে সমর্থন করে উদ্বাস্তুদের ও মতুয়াদের কি লাভটা হল?
প্রশ্ন উঠছে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হিসাবে তাহলে সুব্রত ঠাকুরের পিতা এ যাবত কি করতে পেরেছেন?
প্রশ্ন উঠচে উদ্বাস্তু নেতা উপেন বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে ও অন্যান্য তৃণমূলি নেতাদের ভূমিকা নিয়েও,তাঁরা তৃণমূলে থেকে কিছুই করতে পারলেন না,সিপিএম শাসনের দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছরে কিছুই করতে পারলেন না ,আর ঠিক ভোটের আগে প্রতিবার আন্দোলন,অনশন করার পর পালাবদলের এই অনুষ্ঠানে মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের কি লাভ হবে?
অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করে নিলেন মতুযারা বিজেপির ভরসায় সুব্রতঠাকুরের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর।
মা মাটি মানুষের তৃণমুলি সরকারে উদ্বাস্তু মন্ত্রী মন্জুল কৃষ্য় ঠাকুরের ছেলে সুব্রতঠাকুর ও তাঁদের অনুগামীপাল্টা মতুয়া সংঘের একুশ জন প্রতিনিধি দল এই সিদ্ভান্ত করেন দীর্ঘক্ষণ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সুব্রতঠাকূরের রুদ্ধদ্বার বেঠকের পর।
গত মাসের সাতাশ তারিখ থেকে মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন একূশ জন মতুয়া।রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার করণপাত করেনি,রাজনৈতিক সমর্থন আসেনি তৃণমুলিদের তরফ থেকেও।
রেল অবরোধেও কাজের কাজ কিচ্ছু হল না।
আগের দফা মতুয়াদের আমরণ অনশন লেবু জল খাইয়ে ভেঙ্গেছিলেন রিপাবলিকান সাংসদ রামদাস আঠাওয়ালে,এবার তিনিও নেই।
বিজেপির তপসিলি মোর্চার সভাপতি দত্তা কৃষ্ণমুর্তি মান্ডিরনেতৃত্বে রাজ্যও জেলারনেতাদের সঙ্গ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর অনশন শেষ।কেন্দ্রীয় কোনো নেতা অবশ্যছিলেন না কেউ,কেন্দ্র সরকারে ক্ষমতাধীন বিজেপিরই পাশ করা আইন বাতিলের দাবিতে রাজ্যও জেলা বিজেপির নেতারা সুব্রত ঠাকুরকে ঠিক কি ভরসা যোগাতে পেরেছেন,তা নিয়েও ধোঁয়াশা থাকল।অবশ্য বাবার সম্মতিতেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক,একথা জানিয়ে তৃণমুলে মন্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ভবিষত নিয়েও রহস্য তৈরি করে দিলেন সুব্রত ঠাকুর।
ইতিমধ্যে নরেন্দ্র ভাই মোদী পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত পাঁচ সাল আগের হিন্দু ও শিখ শরণার্থিদের নাগরিকত্ব দেওযার অজুহাতে আবার যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তৈরি করতে যাচ্ছে ,তার প্রস্তাবিত খসড়া বিলে এদেশে সেই ভারতভাগের পর থেকে বসবাসকারী পূর্ববঙ্গীয় বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কোনো বার্তা নেই তাতে। উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান এবং কোলকাতাযছাড়াও সারা বাংলায়এবং সারা ভারতে বসবাসকারী নাগরিকত্বহীন মানুষদের বড় অংশই তপসিলি এবং তাঁদের অনেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।
উদ্বাস্তু ও অনুপ্রবেশকারি,হিন্দু ও মুসলিম বিভাজনসত্বেও মোদীকে ধন্যবাদ যে তিনি বাংলার নেতা নেত্রীদের মুখোশ খুলে দিতে পেরেছেন। নাগরিকত্ব সংশোধণী আইন পাশে যাদের সবারই সমান ভূমিকা। সেই আইন অনুযায়ীই মোদী 1947 সালের পর সব্বাইকে তল্পি তল্পা গুছিয়ে নিতে বলেছেন এবং সে আইন বলবত থাকছেই শুধু নয় সেই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দুত্ব বাহিনী সারা দেশে বাঙালি হিন্দু শরণার্থীদের বিতাড়ন অভিযান নূতন করে শুরু করে দিয়েছে।
যারা 1971 সালের পর এসেছেন,তাঁরাও অনেকে এ রাজ্যে মন্ত্রী এমএলএ এমপি হয়ে সব সুবিধা ভোগ করেছেন,করছেন,সংরক্ষণে জমিয়ে চাকরি করছেন, তাঁরা নিজেদের চামড়া বাঁচাতে 1947 এর আগে পরে আসা সর্বস্বহারাদের বলির পাঁঠা করে দিচ্ছেন সারা ভারতে।
পূর্ববঙ্গ থেকে ভারতভাগের বলি এবং পরে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু উত্পীড়নের জেরে আসা উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে চলা আমরন অনশন নিয়ে কেন্দ্র সরকারের মাথা ব্যথা হওয়ার কোনো কারণ নেই।কেন্দ্র সরকারের হেল দোল না দেখে মতুয়ারা ধ্যান আকর্ষণের জন্য রেল অবরোধও করে ফেলেছেন,এখন সম্মান জনক ভাবে অনশন শেষ করার পালা,যেমনটি আগেও হয়েছে।ইতিমধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি প্রবল পরাক্রমী নরেন্দ্র মোদী কোলকাতায় প্রকাশ্যজন সমাবেশ হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে প্রবল শাসকীয় আপত্তির পর সফল করে দেখিয়েছেন এবং অমিত বিক্রমে বাংলা দখল অভিযান শুরু করেছেন।ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কে নির্মূল করার।কিন্তু ভোটের অন্ক এখনো বাংলার অন্ততঃ তিরিশ শতাংশ ভোটের সমর্থনের পর নির্ভর করে ,তাই আজানের সময় চুপ করে ছিলেন হিন্দুত্বের ধর্মোন্মাদকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া অমিত শাহ।কাশ্মীরে অভূতপূর্ব ভোটের রহস্যবিজেপিকে ক্ষমতা থেকে বাইরে রাকার জন্য মুসলমান জনসংখ্যার প্রবল মতদান।এই নিরিখে বলাই যায় রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে দু চারজন মুসলমান যদি বিজেপিতে যোগ দেন বা রাজনৈতিক দলগুলির সমস্থ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠিও গৌরিক পতাকার শরণে চলে আসেন,বাংলা দখল এখনো দুর অস্ত।
গত লোকসভা ভোটের প্রচারে নরেন্দ্র মোদি একসময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করেছিলেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের পোটলা-পুটলি বেঁধে দেশ ছাড়ার জন্য তৈরি থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য মতুয়া ভোটের কথা মাথায় রেখে খানিকটা বদলে যান তিনি। নরেন্দ্র মোদি পরবর্তীতে ঘোষণা করেছিলেন,‘মতুয়ারা ভারতমাতার নামে স্লোগান দেন। তা সত্ত্বেও তাদের অনেকেই আজও ভোটাধিকার পান নি কেন? আমরা ক্ষমতায় এলে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করব। অন্য দলগুলো এদের নিয়ে শুধু রাজনীতিই করে।’
এখন দেখা যাচ্ছে যে মতুয়া ও উদ্বাস্তু ভোটই বিজেপির বাংলা দখলের তুরুপের তাস এবং নাগরিকত্বের টানাপোড়েনে যেমন বাংলার বাইরের বাংলার চেয়ে অনেক ভোট তাঁরা নিযমিত উদ্বাস্তু বিতাড়ন অভিযান চালিযে আতন্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় মুসলমানদের সমান অবস্থানে ফেলে দিয়ে তাঁরা দখল করতে সফল হয়েছেন,সেই পথেই বিজেপি হাঁটছেঅনুপ্রবেশকারিরা তল্পি তল্পা নিয়ে বাংলা সীমান্ত না পেরোলেও কেন্দ্র সরকার উদ্বাস্তু বিতাড়ন অভিযান সমান তালে চালূ রেখে নিরাপত্তাহীন বাংলার মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের ভোট দখল করতে চলেছে।
নাগরিকত্বের দাবি না মেনে মতুয়া উত্তরাধিকারি সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের রহস্য এটাই।তাঁর পিতা মন্জুল কৃষ্ণ ঠাকুর পশ্টিম বঙ্গ সরকারের উদ্বাস্তু মন্ত্রী এবং তিনি নিজে তাঁর প্রয়াত জ্যাঠা মশায়ের জায়গায বনগাঁ সংরক্ষিত সিটের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটের প্রবসল দাবিদার, এমত পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠছে কি তাহলে মতুযারা কি এবার বিজেপিতে এবং তাতে কি উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান হবে?
প্রশ্ন উঠছে স্বঘোষিত মতুয়া মমতাব্যানার্জিকে সমর্থন করে উদ্বাস্তুদের ও মতুয়াদের কি লাভটা হল?
প্রশ্ন উঠছে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হিসাবে তাহলে সুব্রত ঠাকুরের পিতা এ যাবত কি করতে পেরেছেন?
প্রশ্ন উঠচে উদ্বাস্তু নেতা উপেন বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে ও অন্যান্য তৃণমূলি নেতাদের ভূমিকা নিয়েও,তাঁরা তৃণমূলে থেকে কিছুই করতে পারলেন না,সিপিএম শাসনের দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছরে কিছুই করতে পারলেন না ,আর ঠিক ভোটের আগে প্রতিবার আন্দোলন,অনশন করার পর পালাবদলের এই অনুষ্ঠানে মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের কি লাভ হবে?
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, বনগাঁর প্রয়াত তৃণমূল এমপি ও তৎকালীন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর অবশ্য মোদির বক্তব্যকে সেই সময় নস্যাৎ করে ঠাকুর বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ‘মতুয়া’ শব্দের অর্থই জানেন না। উনি কাকাতুয়ার মত শেখান বুলি আওড়াচ্ছেন। মোদি যে উক্তি করেছেন, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। উনি ভোটে চমক সৃষ্টি করার জন্যই এসব কথা বলছেন।’
কপিল বাবু আরো বলেছিলেন, ‘এতদিন এসব কথা বলেননি কেন মোদি? মতুয়াদের সম্পর্কে উনি কিচ্ছু জানেন না। তার সব কথাই মস্ত ভেক মাত্র।’#
উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে আজ (বৃহস্পতিবার) অনশন ও গণকনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। আজ থেকে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার ঠাকুর নগরের মতুয়া ধামে। সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে এই অনশন শুরু হয়েছে। মোট ২১ জন আজ প্রথম দিনের অনশনে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক –এর পক্ষ থেকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটির ডাকে এক গণকনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় বনগাঁয়।
অনশনের তৃতীয় দিনেই শনিবার অনশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪ জন অসুস্থ্ হয়ে পড়ে। অসুস্থরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে চাচ্ছে না। মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এনিয়ে শনিবার বনগাঁর মহকুমা শাসক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান,‘গাইঘাটার বিডিও স্পটে রয়েছেন। অনশনে অংশগ্রহণকারী দের রুটিন চেকআপ করা হচ্ছে।’ গাইঘাটার বিডিও পার্থ মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,‘একজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ মনে হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সারাভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত ঠাকুর বলেছেন,‘এই অনশনে সামিল হয়ে গোঁসাই হরিদাস রায় (৫৮),গোঁসাই বিজিত মণ্ডল (৬৫),গোঁসাই নিত্যানন্দ সিকদার(৬৪) এবং গোঁসাই রবীন্দ্রনাথ(৬৫) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে হরিদাস রায় বেশি অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিজেদের পক্ষ থেকে স্যলাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাইঘাটা বিডিও’র নেতৃত্বে সরকারি চিকিৎসকরা বার বার প্রেসার, পালস এবং অন্যান্য পরীক্ষাও করছেন বলেও সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন।
এদিকে, নাগরিকত্বের দাবিতে অনশন কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে ওপার বাংলার ওড়াকান্দি থেকে বার্তা এসেছে বলে সুব্রত বাবু জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার ঠাকুর নগরের মতুয়া ধামে। সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে এই অনশনে মোট ২১ জন প্রথম দিনের অনশনে উপস্থিত ছিলেন। দুজন পারিবারিক কারণে বাড়ি যাওয়ায় এখন ১৯ জন অনশন মঞ্চে রয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবি, ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদসহ ৬ দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে সারা ভারত মতুয়া মহা সংঘের পক্ষ থেকে।
সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত ঠাকুর জানান, দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,‘পূর্ববাংলা থেকে আসা হিন্দু, মতুয়া, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে প্রতিবাদ জানাতে হবে, মতুয়া ধর্মকে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ধর্ম হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া, হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা, গুরুচাঁদ ঠাকুরের জীবনী ও কর্মধারাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা ও হরিগুরু চাঁদ ঠাকুরের নামে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রভৃতি।’ ঠাকুর নগরের ঠাকুর বাড়িতে এসব দাবি নিয়ে ২৭ নভেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে।
এদিকে,‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বাঙালী রিফিউজিস-এর সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস অনশনরত অবস্থায় আজ (শনিবার) এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘১৯৫০ সালের যে আইন ছিল তাতে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামার কারণে হিন্দু,বৌদ্ধ, খৃস্টান, মতুয়া উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্বের সুবিধা পেতেন। কিন্তু ২০০৩ সালে বিজেপি সরকার নতুন আইনে সেই পুরনো ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে। এতে বিনা পাসপোর্টে যারাই বাংলাদেশ থেকে আসুক না কেন তাদের সবাইকে অনুপ্রবেশকারী হিসবে গণ্য করা হবে। ফলে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান বা মতুয়া যারা ১৯৫০ সালের আইন বলে নাগরিকত্ব লাভ করার সুবিধা পেতেন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে বিশেষ করে হিন্দুদের যে ‘রক্ষা কবচ’ ছিল তা বিজেপিই তুলে দিয়েছে।’
সুকৃতি রঞ্জন বাবু বলেন,‘এখন বিজেপি যেটা বলছে, অনুপ্রবেশকারী হিন্দুরা শরণার্থী এর কোনো ভিত্তি নেই। হিন্দুদের শরণার্থী বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে; ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী তার কোনো ভিত্তি নেই। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিজেপি এসব কথা বলছে। এই ‘দ্বিচারিতা’কে আমরা মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই।’
লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের এক সময় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আমি দিল্লিতে গিয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্বের অধিকার দেব’।এ প্রসঙ্গে সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস জানান, 'কেন্দ্রে ৬-৭ মাস হয়ে গেল, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এনিয়ে আর কোনো কথা বলেন নি। বরঞ্চ শীতকালীন অধিবেশনে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যেটি করা হচ্ছে তাতে বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি নেই। সুতরাং, বিজেপি হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
উল্লেখ্য খবরে প্রকাশ,রবিবার হাবরার সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে। বললেন, “আগে বারবার উনি মতুয়াদের অফিসে আসতেন মায়ের (মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপাণিদেবী, ‘বড়মা’ নামেই যিনি পরিচিত) আশীর্বাদ নিতে। এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে আর মাকে মনে পড়ে না। কাজ তো সারা হয়ে গিয়েছে।” ঘটনাচক্রে, রাহুলের সভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বনগাঁয় সরকারি কাজে আসছেন মমতা। তৃণমূল সাংসদ তথা সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের মৃত্যুতে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে বনগাঁয় মমতা সরকারি সফরে এসেও উপনির্বাচন কেন্দ্রিক বার্তা দেবেন বলেই অনেকের মত। এখন দেখার, তিনি রাহুলের অভিযোগের জবাব দেন কি না।
(For more information see
http://www.aajkaal.net/16-11-2014/news/232424/
&
http://www.ekhonkolkata.com/বিজেপি-র-সঙ্গে-সুব্রত-ঠাক/)
O- পলাশ বিশ্বাস


