মেহনতী মানুষের মৃত্যু নেই,বন্ধু! ১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
মেহনতী মানুষের মৃত্যু নেই,বন্ধু! ১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
মেহনতী মানুষের মৃত্যু নেই,বন্ধু!
মোদি সরকারের শ্রমনীতির প্রতিবাদে দশটি প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা একদিনের ‘ভারত বন্ধ’ কর্মসূচিতে বুধবার থমকে আছে পুরো ভারত।
১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
মরণ ঘুম ভেঙ্গে জাগলো আবার মাটিতে ফলানো লক্ষ্মী শিষ
মরণ ঘুম ভেঙ্গে জাগলো আবার কাস্তে হাতুড়ি তারা
পথে পথে হাতে হাত রেখে আবার শ্লোগান.
পথে পথে মিছিলি মিছিলে পদাতিকের দেখা.
পাতালঘরে সুড়ুঙে বন্দিনি নন্দিনী.
সব চিত্কারের পরাণে ঠিকানা লেখা আছে.
আসুন আমরা সবাই মিলে ধর্ম ও জাতপাতের বন্ধন মুক্ত এক নুতন ভারত বানাই।
পলাশ বিশ্বাস
১৫ কোটি শ্রমিকের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে ভারতজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
আসুন আমরা সবাই মিলে ধর্ম ও জাতপাতের বন্ধন মুক্ত এক নুতন ভারত বানাই।
ঘুম ভাঙ্গলেই সূর্যোদয়.
ঘুম ভাঙ্গলেই আবার সহর.
পাতালঘরে সুড়ুঙে বন্দিনি নন্দিনী.
সব চিত্কারের পরাণে ঠিকানা লেখা আছে.
প্রেমের সেই চিঠি হাত পেতে নিতে হলে
হতে হয় ঝড়ের মুখোমুখি.
নদীর দ্যাশে,সাইক্লোনের দ্যাশে,বাদাবনের দ্যাশে-
এই এতকাল মরণঘুমে ঘুমিয়ে কাটলো দিনকাল.
সব শ্যাষ.
তবু শেষ হয়নি কুিছুই.
পথে পথে হাতে হাত রেখে আবার শ্লোগান.
পথে পথে মিছিলি মিছিলে পদাতিকের দেখা.
মেহনতী মানুষের মৃত্যু নেই,বন্ধু
মরে মরেই জীবনডা শ্যাষ.
সব শ্যাষ.
তবু শ্যাষ হয়নি কিছুই.
মরণঘুম ভেঙ্গেছে এবার.
পথে পথে হাতে হাত রেখে আবার শ্লোগান.
পথে পথে মিছিলি মিছিলে পদাতিকের দেখা.
মেহনতী মানুষের মৃত্যু নেই,বন্ধু!
কখনও কখনও শিশির মুুখ বেশী টাইট্ করে লাগাতে গেলে প্যাঁচ্ কেটে যায় । বহুদিনের প্রবাদ ।
মোদি সরকারের শ্রমনীতির প্রতিবাদে দশটি প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা একদিনের ‘ভারত বন্ধ’ কর্মসূচিতে বুধবার থমকে আছে পুরো ভারত।
ধর্মঘট সফল করতে গত দুই মাস ধরেই সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির তরফে প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
রাজনৈতিকভাবে বিজেপি এবং তৃণমূল ছাড়া দেশের বাকি প্রধান দলগুলি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের কারণ দেখিয়ে এই ধর্মঘটকে সমর্থন করায় পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
তবে ধর্মঘটে আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে দুধ, পানি, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমসহ জরুরি পরিষেবাকে।
পশ্চিমবঙ্গে এদিন সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নামে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। ধর্মঘট রুখতে মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বাভাবিকভাবেই সকাল থেকেই রাজ্যটির একাধিক জায়গায় ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সঙ্গে হাতাহাতি বাধে পুলিশের সঙ্গে। শিয়ালদহ কিংবা হাওড়া সেকশনে একাধিক জায়গায় ধর্মঘট সমর্থনকারীরা রেললাইনের ওপরে বসে পড়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ভারতজুড়ে কমপক্ষে ১৫ কোটি কর্মজীবী আজকের ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পত্রিকাগুলো। বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া দিনভর এই ধর্মঘটে বিঘ্নিত হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিষেবা। এদিন সকালে পুরো ভারত জুড়েই অসংখ্য ব্যাংকের দরজা খোলেনি। ধর্মঘটে আক্রান্ত হয়েছে পরিবহন সেক্টরও। বিভিন্ন জায়গায় বিঘ্নিত হচ্ছে রেল চলাচল।
বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বুধবার কলকাতায় কোথাও কোথাও ধর্মঘটকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষ হয়। কলকাতায় অধিকাংশ ব্যাংকই বন্ধ। এছাড়া বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতায় বেশ কিছুদিন ধরেই সরব ট্রেড ইউনিয়নগুলো। এর মধ্যেই অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী অরুন জেটলির সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলে বুধবার ধর্মঘটের ডাক দেয় দশটি প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নের জোট। তবে বিজেপি অনুগত ভারতীয় মজদুর সংঘ এবং ন্যাশনাল ফ্রন্ট অব ট্রেড ইউনিয়ন এই ধর্মঘটে যোগ দেয়নি।
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অর্থনৈতিক এবং শ্রম খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কিন্তু তার সংস্কার কর্মসূচি শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী এবং কর্পোরেট স্বার্থের অনুকূলে বলে এর বিরোধিতা করছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। তাদের সমর্থন দিচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
এ পরিস্থিতিতে থমকে আছে ভারতের অর্থনীতি। চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে কাঙ্ক্ষিত সাত শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ভারতের অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শ্রমবাজারে প্রবেশ করা লাখ লাখ যুব ভারতীয়দের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
একাধিক জায়গায় রেলের তারের ওপরে কলাপাতা ফেলে দেওয়ার ফলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল পরিষেবা। বেশ কয়েকটি স্টেশনে এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে, ফলে সমস্যার মুখে পড়ে বহু যাত্রী।
এদিকে, সোদপুরে ধর্মঘট সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুঁড়িতে এক নারী আহত হয়েছেন।
এছাড়াও করুণাময়ী, যাদবপুর, বসিরহাট, হাওড়া, বারুইপুর সহ একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধর্মঘট সমর্থনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সকাল থেকেই অধিকাংশ স্কুল-কলেজ, দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে।
তবে কলকাতার দমদম বিমান বন্দরে এখনও পর্যন্ত ধর্মঘটের কোন প্রভাব পড়েনি। কলকাতাসহ রাজ্যের অন্যত্র রাস্তায় সরকারি বাস নামলেও বেসরকারি বাসের সংখ্যা কম। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারি বাসের চালককে মাথায় হেলমেট পড়ে বাস চালাতে দেখা যায়।
যানবাহন থাকলেও তাতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।অন্যদিকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ধরে রাখতে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে একদিনের বেতন কাটা যাবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সেই মতো রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নসহ অনেক সরকারি অফিসেই রাত কাটান কর্মচারীরা। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরল, হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি, কর্নাটকসহ কয়েকটি রাজ্যেও ধর্মঘটের সামান্য প্রভাব পড়েছে।
দিল্লিতে এদিন বাস, সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। কেরলের রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম।
রাজ্যটির তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর বলে পরিচিত টেকনোপার্ক এবং ইনফো পার্কে উপস্থিতির হার কম। হিমাচল প্রদেশে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম থাকলেও রাজ্য সরকারের অফিস এবং স্কুল-কলেজ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক আছে। যদিও তামিলনাড়ুতে ধর্মঘটের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।


