মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 5 ই আগস্ট কোলকাতায় মিছিল ও বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডেপুটেশান
মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 5 ই আগস্ট কোলকাতায় মিছিল ও বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডেপুটেশান
পলাশ বিশ্বাস
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান হামলার আগে এ বিষয়ে সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ছিল, গুলশান এলাকায় কিছু একটা ঘটতে পারে। এ কারণে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। এর পেছনে কারা, কারা এদের মদদ দিয়েছে, তা আমাদের জানা আছে।’—বাংলা ট্রিবিউন
ঢাকায় 20 টি স্থানে জঙ্গী হামলার আশন্কা।ঠাকার বাইরে যে কোনো স্থানে এবং পশ্চিম বাংলা কি আসামেও চলতে পারে অবাধ স্নত্রাস যেহেতু ক্রমশঃ পরিস্থিতি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রমের বাইরে চলে যাচ্ছে!
শেখ হাসিনা সরকারের দাবি গুলশান হামলার যাবতীয়ত্থ্য তাঁদের জানা ছিল!
তবু তাঁরা কিছুতেই আচকাতে পারছেন না অবাধ হত্যালীলা,ঘর্ষণ তান্ডব!
ঠাকার বাইরে হামলার পূর্বাভাস নেই,যেমন ছিল না গুলশানেরও!সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয়ঐক্যের দাবি বাংলাদেশেই অস্বীকৃত,আমাদেরই রক্ত মাংশের অংশীদার যারা,তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে না ভাবলে এই বাংলায়,এই ভারতবর্ষে আমাদের নিরাপত্তার কি হবে!
সংখ্যালঘুদের হত্যা লীলা চলছে।
চলছে ধর্ষণ।
রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থে সফ্ট টারগেট সংখ্যালঘুরাই।
রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি আবার সেই সংখ্যালঘুরা।
ভরতবর্ষ ও পৃথীবীর বিভিন্ন দেশের ঘটনাবলির প্রতিক্রিযার বলিও সংখ্যালঘুরা।
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অবসান না হলে,হত্যালীলা ও ধর্ষণ মহোত্সবের শেষ না হলে কতদিন প্রযন্ত বাংলাদেশে থাকতে পারবেন সংখ্যালঘুরা?
সংখ্যালঘুরা তল্পিল্পা নিয়ে কাঁটাতারের এপারে চলে এলে বাংলা,আসমাম ও বাকী ভারতবর্ষের কি হবে ?
এই পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্যই মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 5 ই আগস্ট কোলকাতায় মিছিল ও বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডেপুটেশান!আসুন সবাই পথে নামি!বাঁচার ঠিকানা মিলবে পথেই!
ভারতবর্ষের ভূগোল আর ইতিহাস বার বার বদল হয়েছে।ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলেই আমরা বুঝতে পারি যে পৃথীবীর সমস্ত প্রাচীন সভ্যতা ধ্বংস হলেও ভারতে সবসময় বিভিন্নতার মধ্যে সহিষ্ণুতা,ভ্রাতত্ব,একাত্মতা,সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে জাতি ব্যবস্থার অভিশাপ সত্বেও মানবতার স্বার্থে আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যশালী জীবন দর্শন ও সংঘাতের পরিবর্তে মানবন্ধন ভারতকে রবীন্দ্রনাথের ভারত তীর্থ করে তুলেছে। মানুষের ধর্ম , জাতি, আস্থা, সমাজ, রাজনীতি যাই হোক, মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের ধম্ম ও পন্চশীল অনুশীলনে আজ অবধি নানা বিপর্যয় সত্বেও ভারতবর্ষ বেঁচে আছে।
ভারতভাগের অত বড় বিপর্যয়ের পরও মানুষ আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছে বা পারছে।ভূগোল বদলেছে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের চরিত্র অনুযায়ী কিন্তু তাতে ভারতবর্ষের মৃত্যু হয়নি।
মায়া,ইনকা,মিশরীয়,রোমান,গ্রীক,মেসাপোটামিয়ার বিপরীতে ভারতবর্ষে মোহনজো দোড়ো হড়প্পার সিন্ধু নগর সভ্যতার পতনের পরও হাজার হাজার বছরের মানববন্ধনই ভারতবর্ষকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে।আমাদের এি প্রজন্ম কি সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে,যখন সবকিছুই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে এবং আমরা দ্বংসের মুখোমুখি আজ।দশ দিগন্তে অশনিসংকেত।বিপর্যয়ের মোকাবিলার সমস্থ রাস্তা কিন্তু ভারতবর্ষের ঐতিহ্য রয়েছে।মীডিয়ার রং বেরং খবরাখবরের ফাঁকে আমরা যধি ভারতবর্ষের বিভিন্ন জনগোষ্ঠির ও বিভিন্ন ভাষার লোকসংস্কতিতে প্রাণভরে ডুব দিয়ে চোখ কুলে দেখি,মৃত্যুর মুখোমুখি জিয়নকাঠির সন্ধান না পাওয়ার কথা নয়।আমাদের পুন্শ্চ পুনরূত্থানের মোহ ত্যাগ করে ঐ লোক ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে জীবনযাপনের মূল আধার ও দর্শন মেনে নিয়ে এখনই বিপর্যয়ের মোকাবিলায় একতাবদ্ধ হতে হবে।
পেরিসে নীস শহরে সন্ত্রাস হামলা,মক্কায় সন্ত্রাস,তুর্কিতে সৈন্য অভিযান পৃথীবীর নানা দেশে যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ সেই সোভিয়েত পতনের পর অনিবার্য ঘচনাক্রম,যা ভারতবর্ষেও আমরা আশির ধশক থেকে পান্জাবে,কাশ্মীরে,আসামে,ত্রিপুরায় বার বার দেখেছি।রক্তপাত চলছেই।দশ দিগন্তে মনুষত্বের প্রাণ প্রকতির সমস্ত সম্পদ বিপর্যস্ত এবং লাগাতার লাগাতার নতুন নতুন রক্তনদীর উত্স খুলে যাচ্ছে আর আমরা সেই সমস্ত রক্তনদীর মোহানায় দাঁচিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করছি।
আমরা বিভিন্ন ভাষায় সারা বিশ্ব জুড়ে আত্মধ্বংসের এই সময়প্রবাহের চাক্ষুস প্রত্যক্ষদর্শী এবং আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন,সেই চেতনা অবলুপ্ত।
ভারতবর্ষ সেদিনও পরাধীন ছিল।ইতিহাসের নিরিখে স্বাধীনতার এই সাত দশক অত্যন্ত ছোট একটি কালখন্ড।কিন্তু পলাশীর যুদ্ধের পর সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অখন্ড বাংলাই আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহের নিরন্তর যুদ্ধভূমি চুয়াড় বিদ্রোহ থেকে তেভাগা পর্যন্ত।স্বাধীনতার আগে বাংলা এবং পান্জাব স্বাধীনতার জন্য যত রক্ত দিয়েছে,স্বাধীনতার বলিকাঠে যত প্রাণ দিয়েছে,সারা পৃথীবীর ইতিহাসে তার তুলনা নেই।তারপরও মাতৃভাষা ও স্বাধীনতার জন্য দ্বিধা বিভক্ত বাংলাক ওপার যত রক্ত ,যত প্রাণ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন করেছে,ইতিহাসে তারও কোনো দ্বিতীয় নজির নেই।
স্বাধীনতার বলি ভারতেভাগের ফলে সেই বাংলা এবং পান্জাব।স্বাধীনতার পর বাঙালি হিন্দু শরণার্থীরা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে,মাতৃভাষা হারা ,পরিয়হীন বেনাগরিক জীবন যাপল করছেন- এমন মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটি এবং পশ্চিম বাংলায় নকোটি জনসংখ্যার মধ্যে যারা বাঙালি,তাঁদের অর্ধেকের পরিচয় এখনো বাহাল তকমা ঘুচে গেলে ও সেই উদ্বাস্তু বেনাগরিক।মধ্যপ্রাচ্যে ও আফ্রিকায় যে শরণার্থীর ছল দেখা যাচ্ছে,তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক বাঙালি উদ্বাস্তু এই বাংলায় এবং ভারতবর্ষের প্রায় সব রাজ্যেই নাগরিক ও মনবিক অধিকার,জীবিকা ও নাগরিকত্ব বন্চিত রেল লাইনের ধারে,গ্রাম ও শহরের বাইরে,নদী ও ঝিলের পারে,নগর মহাগরের ফুটপথে কোনো ক্রমে দিন যাপন করছে।
বাংলার বাইরে পাঁচ কোটি ও বাংলায় তিন কোটি এই ছন্নছাড়া ভিটেহারা মুখছাড়া কবন্ধ নামানুষের মহামিছিলে শামিল হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশে এখনো থেকে যাওয়া দু কোটি উনচল্লিশ লক্ষ মানুষ।
বাংলাদেশর অগ্নগর্ভ অবস্থার উন্নতি না হলে,বাংলা ও আসামে আবার মহাবিপর্যয়।যাদের পুনর্বাসন,নাগরিকত্ব ও সংরক্ষণ আজও হয়নি,তাঁদের সঙ্গে বাংসলাদেশের সংখ্যালঘু যোগ হলে পরিস্থিতি ভারত সরকার,পশ্চিম বঙ্গ,আসাম,ত্রিপুরা সরকার তে বটেই ভারতবর্ষের কোনো রাজ্যের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে।
বাংলাদেশ এখন যেভাবে মৌলবাদীদের দখলে,সেই ভাবেই আসমাম বাংলা সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যও দখল করার মরিয়া আত্মঘাতী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক মৌলবাদী সন্ত্রাস বাদী শক্তিগুলো।
সন্ত্রাসের জবাব সন্ত্রাস হতে পারে না।
হিংসার জবাব হিংসা হতে পারে না।
মৌলবাদের জবাব মৌলবাদ হতে পারে না।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে বার বার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে দেশকে বিপদের ,ধ্বংসের থেকে বাঁচিয়ে রাখার অনেক প্রসঙ্গ পাতায় পাতায় আছে।এই ইতিহাসের দৌলতে আজও ভারতবর্ষ বেঁচে আছে।আমরাও বেঁচে বর্তে আছি।ইতিহাসের সেই ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারলেই আমাদের সন্তানরা দুধে ভাতে না হোক কোনোক্রমে বেঁচে বর্তে থাকতে পারে।
ভবিষ্যতেে শিশুরা জন্মাবে,তাঁদের জন্যএই পৃথীবীকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে না পারলেও,পৃথীবী,ভারতবর্ষ ও সভ্যতা কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য লোকসস্কৃতি ও ইতিহাসের মানববন্ধনকে অক্ষুন্না রাখার কাজটা আমদের করতেি হবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি না বদলালে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া যতই মজবুত করুন,যতই সীমান্ত সীল করুন,যতই নিরাপত্তা বেস্টনী তৈরি করুন,বাংলাদেশের মরণাসন্ন দু কোটি উনত্রিশ লক্ষ সংখ্যালঘুদের উদ্বাস্তু ঢল নামছেই।
তেমন অবস্থা হলে,পূর্ববঙ্গের মুলনিবাসী দশ কোটিরও বেশি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই মহাদেশে বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য হোমল্যান্ড ছাড়া কোনো বিকল্প আর থকবে নাএকই সঙংগে হাজার হাজার মরিচঝাঁপির জন্য প্রস্তুত হওয়ার অশনিসংকেত যারা বুঝতে পারছেন না,তাঁরো আদৌ বাঙালি কিনা সন্দেহের অবকাশ থেকে যাচ্ছে।
মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 5 ই জুলাই কোলকাতায় মিছিল ও বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডেপুটেশান।আমরা ঔদিন দলে দলে রাস্তায় বেরোব।বাংলা,আসাম,ত্রিপুরা ও ভারতবর্ষকে বাঁচনোর তাকীদ যাদের আছে,মনুষত্ব ও সভ্যতার পক্ষে যারা,তাঁরাও ঐ মিছিলে যোগ দেবেন,এই আমাদের আহ্বান।
বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ এবং ভারতবর্ষও নিরাপদ নয়,মানুষ নিরাপদ নয়,সব মানুষই এখন উদবাস্তু।উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান না হলে,যারা এই মুহুর্তে উদ্বাস্তি নন.তাঁদের নিযতিও রবিঠঠাকুর লিখে গিয়েছেনঃ হে মোর দুর্ভাগা দেশ,যাদের করেছো অপমান-
বাংলাদেশ থেকে দু কোটি 39 লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষের ঢল নামতে চলেছে ভারতবর্ষে এবং পরিস্থিতি ক্রমশঃ রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মনুষত্বের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে।
ইজরায়েলর মত বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য অনিবার্য হোমল্যান্ডের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে,আমরা কি চাই?
ধর্ম জাতি রাজনীতির উর্দ্ধে সংযত উদ্বাস্তু আন্দোলন সংগঠিত করা বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা!
বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ এবং ভারতবর্ষও নিরাপদ নয়,মানুষ নিরাপদ নয়,সব মানুষই এখন উদবাস্তু!
বাংলাদেশ থেকে দু কোটি 39 লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষের ঢল নামতে চলেছে ভারতবর্ষে এবং পরিস্থিতি ক্রমশঃ রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মনুষত্বের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে!
ইজরায়েলর মত বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য অনিবার্য হোমল্যান্ডের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে,আমরা কি চাই?
ধর্ম জাতি রাজনীতির উর্দ্ধে সংযত উদ্বাস্তু আন্দোলন সংগঠিত করা বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা!


